প্রবাসী বাঙালির বিয়েতে কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি?
জীবনে ব্যস্ততা বেড়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে সংক্ষিপ্ত হচ্ছে পরিধি। কর্মসূত্রে প্রবাসী সন্তানের সঙ্গে ওখানেই থিতু হচ্ছেন বাবা-মায়েরা। এমত অবস্থায় বিয়ের মত গুরু দায়িত্ব যখন কাঁধে এসে পড়ে, প্রথম মাথায় আসে 'কাজ করবে কে?' এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেই প্রাসঙ্গিক হয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি৷ বিয়ের শুরু থেকে শেষ দায়িত্ব নিয়ে সামলে দিচ্ছেন তারাই। ফলত নিশ্চিন্ত বর-কনে, নিশ্চিন্ত বাবা-মায়েরাও।
সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে বহু বছর পর মেয়ের বিয়ের জন্য নিজের শহরে ফেরা; এই মুহূর্তটার মধ্যে যে কতখানি কান্না আর হাসি একসঙ্গে মিশে থাকে, তা বোধহয় যাঁরা প্রবাসে থেকেছেন তাঁরাই বোঝেন। পৈতৃক বাড়ির দরজায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, সময় যেন থমকে গিয়েছিল এতদিন, শুধু এই দিনটার অপেক্ষায়।
কিন্তু আনন্দের এই ঢেউয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকে এক অদৃশ্য দুশ্চিন্তা। বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসে, দায়িত্বের ভারও তত বাড়তে থাকে।
কেন প্রবাসী বাঙালিরা আজ নির্ভর করছেন Wedding Management Planner-র উপর
আজকাল আমাদের সবার জীবনই বড় ব্যস্ত। চাকরি, ব্যবসা, সন্তানের পড়াশোনা, সবকিছু সামলে একটা গোটা বিয়ে সামলানো সহজ কথা নয়। তার উপর বাঙালি বিয়ের হাজারো নিয়ম, আচার এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক, সাজ, ডেকরেশন। বিদেশ থেকে বসে ফোনে ফোনে ডেকোরেটর ঠিক করা, ক্যাটারার খুঁজে বের করা, ফটোগ্রাফারের সঙ্গে দরদাম, এসব ভাবতেই ক্লান্ত লাগে।
ছুটি সীমিত। কলকাতায় হয়তো আত্মীয় আছেন, কিন্তু হাতে হাতে কাজ করার মতো লোক কোথায়? আগেকার দিনে পাড়া-প্রতিবেশী মিলে যেভাবে বিয়ে বাড়িতে হাত লাগাতেন, সেই সংস্কৃতি আজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের কাঁধে এত বড় দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে নারাজ বিয়ের নতুন প্রজন্ম।
আর ভেন্ডরদের কথা যদি ভাবি—ডেকোরেটর, ক্যাটারার, ফটোগ্রাফার, মেকআপ আর্টিস্ট, গেস্ট ম্যানেজমেন্ট, ট্রান্সপোর্ট—এত কিছু একা হাতে সামলানো প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। ঠিক এই জায়গায় প্রয়োজন একজন দক্ষ Wedding Planner-এর।
Parinoy যেন পরিবারেরই একজন
Parinoy কোনও তথাকথিত কোম্পানি নয়, বরং বাড়ির বড় দিদির মতো এসে পুরো দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নেয়। চার দিনের সম্পূর্ণ রীতিনীতি মেনে বাঙালি বিয়ে, আইবুড়ো ভাত থেকে গায়ে হলুদ, আশীর্বাদ, বিয়ে আর বৌভাত, প্রতিটি অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তে থাকে সক্রিয় উপস্থিতি।
ভেন্ডর কোঅর্ডিনেশন হোক বা গেস্ট ম্যানেজমেন্ট, টাইমলাইন ঠিক রাখা হোক বা হঠাৎ কোনও সমস্যা সামলে নেওয়া, Parinoy নিঃশব্দে সব সামলে দেয়, যাতে পরিবারের সদস্যরা শুধু অনুষ্ঠানটা উপভোগ করতে পারেন। কারণ একটা বিয়ে তো শুধু আয়োজন নয়, সেটা একটা পরিবারের জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়ও বটে।
গানের সুরে জমে ওঠে সঙ্গীত সন্ধ্যা
সন্ধেবেলা যখন উঠোনে বা লনে বসে যায় বাঙালির সঙ্গীত সন্ধ্যা-এর আসর, তখন যেন সময়টাই বদলে যায়। কখনও গানের কথায় চোখ ভিজে ওঠে, আধুনিক গানে পা নাচে, বা তালে তালে হাততালি পড়ে। বাইরে থেকে আসা আত্মীয়দের কাছে এই সন্ধেটা যেন ফিরিয়ে দেয় হারিয়ে যাওয়া বাঙালিয়ানা।
দুটি পরিবারের গল্প
বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ানিবাসী শ্রী সমর ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন মেয়ে সৌমিলির বিয়ে হোক যাদবপুরের পৈতৃক বাড়ি থেকেই। কিন্তু বিদেশে বসে এত আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব । তাই নির্ভয়ে সব দায়িত্ব তুলে দিলেন Parinoy-এর হাতে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানান, "আমরা শুধু মেয়ের বিয়ে উপভোগ করেছি। বাকি সব দায়িত্ব যেন নিজের পরিবারের মতো সামলেছে Parinoy।"
অন্যদিকে বেঙ্গালুরুবাসী শ্রীমতি রাখী সেন, একা হাতে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাসবিহারীর বাড়িত থেকে। পাত্র এন আর আই। তাই স্বাভাবিকভাবেই হাতে ছিল না তেমন লোকবল। Parinoy সব দিক সামলে নেয় নিজের মতো করে। তাঁর কথায়, "আমার মেয়ের বিয়েতে আমি কখনও একা অনুভব করিনি। প্রতিটি মুহূর্তে Parinoy ছিল আমাদের পরিবারেরই একজন হয়ে।"
শিকড়ে ফেরার গল্প
প্রবাসে যত বছরই কাটুক না কেন, শিকড়ের টান কখনও কমে না। আর সেই শিকড়ে ফিরে এসে যদি বিয়ের প্রতিটি মুহূর্ত নিশ্চিন্তে উপভোগ করা যায়, তার জন্য দরকার এমন একটা টিম, যারা শুধু ইভেন্ট ম্যানেজ করে না, বরং পরিবারের সদস্য হয়ে পাশে দাঁড়ায়। Parinoy সেই বিশ্বাসেরই আরেক নাম।
বিয়ে শুধু একটা অনুষ্ঠান নয়, দুটি পরিবারের গল্প। আর সেই গল্পের প্রতিটি অধ্যায় যত্ন করে সাজিয়ে তোলাই Parinoy-এর প্রতিশ্রুতি।